পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (AAP) সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) বড় পদক্ষেপ। দীর্ঘ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হলো পঞ্জাবের প্রভাবশালী শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকে। বড়সড় অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
কী এই ১০০ কোটির কেলেঙ্কারি?
ইডির গোয়েন্দা সূত্রের খবর, প্রায় ১০০ কোটি টাকার ‘রাউন্ড-ট্রিপিং’-এর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সঞ্জীব অরোরার বিরুদ্ধে। সহজ কথায়, নিজের বা সহযোগীদের অবৈধ টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে আবার সাদা টাকা হিসেবে ফিরিয়ে আনার একটি বড় চক্রের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই ইডির রাডারে ছিলেন এই মন্ত্রী। সোমবার গভীর রাতে তাঁর চণ্ডীগড়ের বাসভবন ও অন্যান্য ডেরায় ম্যারাথন অভিযানের পরেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
পঞ্জাব রাজনীতিতে কম্পন
দিল্লির পর এবার পঞ্জাব— আম আদমি পার্টির একের পর এক নেতার ইডির জালে ধরা পড়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চলছে।” অন্যদিকে, আপ নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে দলকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত ছক।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আজই সঞ্জীব অরোরাকে বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে। ইডি সূত্রে খবর, এই পাচার চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এই ১০০ কোটি টাকার উৎস ঠিক কী, তা জানতে মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চান গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় আর কোনো বড় নাম জড়িয়ে আছে কি না, তা নিয়েও এখন চলছে জোর জল্পনা।
পঞ্জাব সরকারের এই হেভিওয়েট মন্ত্রীর গ্রেফতারি বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





