আসন্ন নির্বাচনে নিজের জয় নিশ্চিত করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি ২৫টিরও বেশি সরকারি ‘লাভজনক পদ’ (Office of Profit) থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। নির্বাচনের আগে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ শাসকপক্ষ, আর তাই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী যে পদগুলোতে আসীন ছিলেন, তার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড, ট্রাস্ট এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান পদ ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই আইনি বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতেই তড়িঘড়ি এই গণ-ইস্তফা। আজ সকালেই সমস্ত ইস্তফাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীতও হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীরা যাতে কোনোভাবেই তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করতে না পারে, সেজন্যই এই সাবধানতা। পদত্যাগের এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা ছড়িয়েছে তাঁর মনোনয়ন জমার তারিখ নিয়ে। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এক বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তিনি নিজের মনোনয়নপত্র পেশ করবেন। মনোনয়নের দিনটিকে এক প্রকার শক্তির লড়াই হিসেবে দেখাতে চাইছে শাসক দল। ইতিমধ্যেই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন সেই মেগা ইভেন্টের দিকে, যেখানে ২৫ পদত্যাগী মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে জনসমর্থনের পরীক্ষা দিতে নামবেন।