বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর পারদ এখন সপ্তমে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই কোটি টাকার প্রশ্ন—বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে কি শুভেন্দু অধিকারীই হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর শুভেন্দুর রাজনৈতিক ওজন বেড়েছে বহুগুণ। এবার তিনি খোদ নিজের গড় ছাড়িয়ে ভবানীপুরের লড়াইতেও শামিল। কিন্তু বিজেপির অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রজেক্ট করা হয় না। তবে শুভেন্দুর ক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘স্নেহ’ এবং তাঁর জন্য নিয়ম ভেঙে দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী করার ঘটনা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জ্যোতিষীরাও এখন কাটাছেঁড়া শুরু করেছেন। তাঁর জন্মকালীন রাশি মিথুন এবং নামরাশি কুম্ভ। গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী, বর্তমানে শনি তাঁর জন্য যথেষ্ট অনুকূল। কিছু জ্যোতিষীর মতে, ২০২৬ সালে তাঁর কুণ্ডলীতে ‘রাজযোগ’ স্পষ্ট, যা তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসাতে পারে। যদিও অন্য একটি মহলের মতে, তিনি কেন্দ্রে বা রাজ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদও পেতে পারেন। শুভেন্দু নিজে অবশ্য বিনম্রভাবেই জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করা, পদের মোহ তাঁর নেই।
তবে লড়াইটা মোটেও সহজ নয়। জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তার দৌড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (৪৮.৫%) এখনও শুভেন্দুর (৩৩.৪%) থেকে অনেকটা এগিয়ে। তাছাড়া বিজেপির অন্দরেও অনেক হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন যারা শুভেন্দুর পথে কাঁটা হতে পারেন। সব জল্পনার অবসান হবে আগামী ৪ মে, যখন নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী বিজেপি যদি ১৭৭টি আসন পায়, তবে কি মোদী-শাহ জুটি ভূমিপুত্র শুভেন্দুর মাথাতেই রাজতিলক পরাবেন? উত্তর দেবে সময়।