ফেসবুকে শুরু, মন্দিরে শেষ! ৯ বছরের প্রেম পূর্ণতা পেল মুঙ্গেরে, ফিলিপাইন থেকে উড়ে এলেন সারা

ডিজিটাল দুনিয়ার বন্ধুত্ব যে সাত সমুদ্র তেরো নদীর সীমানা পেরিয়ে আজীবনের বন্ধনে পরিণত হতে পারে, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো বিহারের মুঙ্গেরে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকের মাধ্যমে শুরু হওয়া এক প্রেমকাহিনি এখন পরিণয় পেয়েছে। ফিলিপাইনের তরুণী সারা পলিন ক্রুজ ভালোবেসে ঘর বাঁধলেন মুঙ্গেরের আসারগঞ্জের যুবক ঋষি কুমারের সঙ্গে। হিন্দু রীতি মেনে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে চার হাত এক হলো এই আন্তর্জাতিক যুগলের।

৯ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
গল্পের শুরু আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগে। ভাগলপুরের একটি পেইন্ট কোম্পানিতে কর্মরত ঋষি কুমারের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয় ফিলিপাইনের বাসিন্দা সারার। শুরুর দিকে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তাঁরা অনলাইনে ভিডিও কল এবং চ্যাটের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন। একে অপরের ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য থাকলেও মন দেওয়া-নেওয়ায় কোনো বাধা আসেনি।

ঐতিহাসিক শিব মন্দিরে রাজকীয় বিয়ে
গত রবিবার মুঙ্গেরে পৌঁছান সারা। এরপর কোনো ধুমধাম বা আধুনিকতা নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে হাভেলি খড়গপুরের ঐতিহাসিক পঞ্চ বদন শিব মন্দিরে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। লাল শাড়ি আর সিঁদুরে সেজে সারা যখন মণ্ডপে বসেন, তখন তাঁকে দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় মানুষের ঢল নামে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে দেবতাকে সাক্ষী রেখে ঋষি ও সারা বৈবাহিক জীবন শুরু করেন। ভিনদেশি তরুণীকে ঘরের বউ হিসেবে পেয়ে ঋষির পরিবারও অত্যন্ত আনন্দিত। বর্তমানে এই ‘ডিজিটাল প্রেম’ এবং সশরীরে বিয়ের কাহিনী এখন গোটা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy