মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার সাধারণ মানুষের হেঁশেলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে। কিছুদিন আগেই ১৪ ও ১৯ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, আর সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডার। ১ জুন থেকে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো ৫-কেজি ফ্রি ট্রেড এলপিজি (FTL) সিলিন্ডারের দাম ১১ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হলো, যা নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলছে।
শহর অনুযায়ী ৫ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দর:
নতুন দাম বৃদ্ধির ফলে শহরভিত্তিক সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে নিম্নরূপ:
দিল্লি: ৮২১.৫০ টাকা।
কলকাতা: ৮৫৮.৫০ টাকা।
মুম্বাই: ৮২৩.৫০ টাকা।
চেন্নাই: ৮৬৬.০০ টাকা।
এই ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারগুলি মূলত পরিযায়ী শ্রমিক, হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থী এবং দিনমজুরদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কারণ, এই সিলিন্ডার কেনার জন্য কোনো স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র বা আধার কার্ডের জটিলতা থাকে না। এছাড়াও, রাস্তার ধারের ছোট খাবার দোকান, চায়ের দোকান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রান্নার জন্য এই সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভরশীল। ফলে, ঘনঘন দাম বৃদ্ধি তাদের আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
যারা প্রথমবার এই ফ্রি-ট্রেড এলপিজি সংযোগ নিতে চাইছেন, তাদের প্রাথমিক খরচও বেশ কিছুটা বেশি। ডিস্ট্রিবিউটর এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সিলিন্ডারের জন্য ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত ডিপোজিট ফি দিতে হয়। প্রথমবার এই অর্থ দিয়ে গ্যাস সমেত সিলিন্ডার কিনতে হয়, পরবর্তীতে কেবল রিফিল করার খরচ বহন করতে হয়।
এদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। সিলিন্ডার প্রতি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৫৩.৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩,২৫৫ টাকায়। তবে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, ১৪.২ কেজির সাধারণ রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলিন্ডার প্রতি ৯৩৯ টাকা দরেই গ্যাস পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে জ্বালানি তেলের দাম যে জায়গায় পৌঁছাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।





