আরও একবার ছাত্র আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল ঢাকা। এবার ক্ষোভের মুখে পড়লেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস। শুক্রবার ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরের একদিন পরই শনিবার ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে ‘জুলাই আন্দোলনকারীরা’, যারা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।
জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের দাবিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের চিত্র: বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পাল্টা জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সংসদ ভবনের সামনে পরপর দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আহত: সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, যে আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল, সেই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে জুলাই সনদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এই প্রতিবাদ।
বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত ও থমথমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ধরপাকড় শুরু করেছে এবং এলাকায় র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আগে ছাত্র-গণ আন্দোলনকারীরা ব্যাপক পুলিশি অত্যাচারের শিকার হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গতকাল, শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়। যদিও আইনি ভিত্তি ছাড়া সনদে সই করতে অস্বীকার করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা সবার আগে এই সনদের দাবি জানিয়েছিল।