ফুটপাথ দখল আর বরদাস্ত নয়! কঠোর মুখ্যমন্ত্রী, উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কী বার্তা দিলেন তিনি?

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনজীবনকে সুশৃঙ্খল করতে রাজ্য সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তা আরও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি দমদম, শিয়ালদহ, নিউ মার্কেট এবং যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে রেলওয়ে ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে যে অভিযান চলছে, তা নিয়ে এদিন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ফুটপাথ জনগণের হাঁটার জন্য, এটি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যবসা করার জায়গা হতে পারে না।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, “ফুটপাথ দখল করে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। জনগণের স্বার্থই আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে।” সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার যে মৌলিক অধিকারের শামিল, সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কলকাতার রাস্তা এবং ফুটপাথ দিয়ে চলাচলের অধিকার একমাত্র জনগণের। এই অধিকার হরণ করার ক্ষমতা বা অনুমতি কারো নেই। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। মুষ্টিবদ্ধ কিছু ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থের জন্য আমি সাধারণ মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারি না।”

অভিযান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নিউমার্কেটের রাস্তা এমনভাবে দখল হয়ে আছে যে, মোটরসাইকেল চলাচলেরও জায়গা নেই। রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মেটিয়াবুরুজে যেভাবে খুশি রাস্তা জবরদখল করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাকে মানুষ মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন শহরের উন্নয়ন ও জনস্বার্থের জন্য, দখলদারির পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য নয়।” তবে তিনি হকারদের প্রতি কিছুটা মানবিক হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, যেখানে সরকারের খালি জমি আছে এবং সেই জমি যদি জনগণের প্রয়োজনে না লাগে, তবে সেখানে বৈধ বা অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে।

তবে হকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার যে উদাসীন নয়, তা-ও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি স্কিম আনা হচ্ছে। এমনকি ভারত সরকারের হকার সংক্রান্ত যে প্রকল্পগুলি রয়েছে, তার সুবিধাও তারা পাবেন। তবে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া বা সুবিধাসমূহ পেতে হলে অবশ্যই আইন মেনে এবং রাস্তার স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে কাজ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের এই বার্তা স্পষ্ট—শহরকে যানজটমুক্ত এবং চলাচলের উপযোগী করে তুলতেই এই উচ্ছেদ অভিযান জারি থাকবে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ফুটপাথ উদ্ধারে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, হকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের আগামী দিনের আলোচনা এখন কী মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy