পশ্চিমবঙ্গে মসনদ বদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। আগামী ২১ মে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। তার ঠিক আগেই, শনিবার ফলতায় নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাইপ্রোফাইল জনসভার কয়েক ঘণ্টা পূর্বে বড়সড় পদক্ষেপ করল জেলা পুলিশ। গ্রেফতার করা হল ফলতার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিতর্কিত নেতা জাহাঙ্গীর খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং তাঁর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত সাইদুল খানকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইদুল খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো একাধিক গুরুতর ও জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। গত ২৯ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের সময় ফলতায় ব্যপক কারচুপি ও বুথ দখলের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন সেই ভোট বাতিল করে ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে। পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাইদুল খান অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ফলতা অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সংগঠক এবং অতীতে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার পুরনো অভিযোগ উড়িয়ে অবশেষে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করায় সাধারণ ভোটারদের একাংশ স্বস্তি পেলেও, রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শুভেন্দু অধিকারীর সভার ঠিক আগে এই গ্রেফতারির পেছনে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে জাহাঙ্গীর খান বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ফলতা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।





