ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজার পরিমাণ বাড়াল বাংলাদেশের একটি বিশেষ আদালত। প্লট দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় হাসিনা-সহ তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিককে সাজা শোনাল ঢাকার বিশেষ আদালত।
বিচারক মহম্মদ রবিউল আলমের নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ এই মামলায় শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। হাসিনার বোন শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য টিউলিপ সিদ্দিককেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত উভয়কে মোট ৭ বছর এবং ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি, টিউলিপকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে, যা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে অতিরিক্ত ৬ মাস জেলে থাকতে হবে। রেহানাকেও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলায় হাসিনা, রেহানা এবং টিউলিপ বাদে অভিযুক্ত বাকি ১৪ জনকেও ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সংশ্লিষ্ট আদালত।
মামলার পটভূমি:
অভিযোগটি ২০১০ সালের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জমি বন্টন নিয়ে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে ১৯৯৫ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। গত ১৩ জানুয়ারি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্য-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে দুদক।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, হাসিনার বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিক নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মা শেখ রেহানা, বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিবের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে অবৈধ ভাবে প্লট বরাদ্দ করেন। অভিযোগ, এই তিনজনের জন্য মোট ১০ কাঠা জমি ‘আত্মসাৎ’ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ আদালত সোমবার দুর্নীতি দমন আইনের-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় এই রায় ঘোষণা করেছে।