প্রেমে প্রত্যাখ্যানের জেরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যা! মির্জাপুরে পুলিশের এনকাউন্টারে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলা এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো। মির্জাপুরের পাদরি থানা এলাকার বাসারি গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং পরে পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করার অভিযোগ উঠল তার প্রেমিক এবং তার প্রেমিকের বন্ধুর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অপরাধীকে ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই বা এনকাউন্টার হয়, যেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ২৩ মে রাতে বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কবিতা (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই কিশোরী হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। সকালে তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করলে গ্রামবাসীরা স্থানীয় একটি শুকনো নর্দমা থেকে কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। নিহতের নাক, ঠোঁট এবং গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা প্রমাণ করে মৃত্যুর আগে তাকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় এলাকাবাসী।

অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও নৃশংসতা:
পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত অজয় বিন্ড তার দোষ স্বীকার করেছে। সে জানায়, কিশোরীর প্রেমিক সজন ওরফে রাজন তাকে বলেছিল, “আমার প্রেমিকার সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেব।” সেই প্রলোভনে অজয় সজনের সাথে ২৩ মে রাতে কবিতার সাথে দেখা করতে যায়। অভিযোগ, সেখানে সজন কিশোরীর সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। অজয়ও একই উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে এলে কিশোরী তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং চিৎকার করতে থাকে।

অজয় জানিয়েছে, চিৎকার থামাতে তারা প্রথমে কিশোরীর বুকে পাথর দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। এরপর তোয়ালে দিয়ে গলা টিপে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খুনের পর তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে তারা মৃতদেহটি নিকটবর্তী একটি শুকনো নর্দমায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশি তৎপরতা ও এনকাউন্টার:
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত মূল অভিযুক্ত প্রেমিক সজন ওরফে রাজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে তার বন্ধু অজয় বিন্ড ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল। আজ পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অজয়কে ধরতে অভিযান চালায়। এই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত গুলি চালালে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলিতে অজয়ের পায়ে আঘাত লাগে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিতেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, “কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পলাতক বন্ধুর এনকাউন্টার আমাদের তদন্তে এক বড় সাফল্য। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই জঘন্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy