২০২৬-এর মহাযুদ্ধে নামার আগেই ঘরের লড়াইয়ে জেরবার পদ্ম শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দুই দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—একাধিক জেলায় দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নিচুতলার কর্মীরা। তাঁদের সাফ দাবি, “মনোনীত প্রার্থী আমাদের পছন্দ নয়, প্রার্থী বদল না করলে ভোট বয়কট করা হবে।”
বিক্ষোভের আঁচ সবথেকে বেশি দেখা গিয়েছে মালদা, জলপাইগুড়ি এবং দুই ২৪ পরগনার বেশ কিছু কেন্দ্রে। কোথাও দলীয় কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও জেলা সভাপতিকে ঘিরে চলে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান। কর্মীদের মূল অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠনের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের বাদ দিয়ে ‘দলবদলু’ বা ‘বহিরাগত’দের টিকিট দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক বিক্ষুব্ধ কর্মীর কথায়, “যিনি গত পাঁচ বছর এলাকায় নেই, তাঁকে কেন প্রার্থী করা হল? আমরা ভূমিপুত্র চাই।”
এই বিক্ষোভের জেরে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট অস্বস্তিতে। যদিও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমীক্ষা করেই যোগ্যদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অনেক জায়গায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিক্ষোভের জেরে বুথ স্তরে সংগঠনের কাজ ব্যাহত হতে পারে। প্রার্থী বদল না করলে ক্ষুব্ধ কর্মীদের একাংশ নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়ার বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যা ভোটের ময়দানে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।