মানুষের সহনশক্তিরও একটা সীমা থাকে, কিন্তু প্রসব যন্ত্রণার সেই চরম মুহূর্তে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা যা করলেন, তা শুনে চিকিৎসকদেরও রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার জোগাড়। প্রসবের অসহ্য কষ্ট সহ্য করতে না পেরে উন্মত্তের মতো নিজের পেট নিজেই ছুরি দিয়ে চিরে ফেললেন এক মহিলা। এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলায়।
জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মহিলা দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ব্যথার তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে হাতের কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের তলপেট চিরে ফেলেন তিনি। আঘাত এতটাই গভীর ছিল যে তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে আসে। মহিলার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা হতবাক হয়ে যান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অস্ত্রোপচার করে তাঁর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হলেও, গর্ভস্থ সন্তানকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, যন্ত্রণার কারণে ওই মহিলা তীব্র ‘লেবার সাইকোসিস’ বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে যেমন বিরল, তেমনই প্রসবকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।