পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করতেই নড়েচড়ে বসল ভারত সরকার। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের (Chief Secretaries) জরুরি চিঠি পাঠালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সচিব।
চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে জ্বালানি তেলের সরবরাহে যাতে কোনো ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসনকে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যাতে কৃত্রিম অভাব তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করা হয়, সেদিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় যুদ্ধের আবহে মজুতদারি বা প্যানিক বায়িং (Panic Buying) শুরু হয়, যা রুখতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম সচিবের এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রেখেছে। তবে হরমজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে রাজ্যগুলিকে ডিলারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শুল্ক কমানোর সুফল যাতে সরাসরি উপভোক্তারা পান এবং কোনোভাবেই যেন তেলের কালোবাজারি না হয়, তা নিশ্চিত করা এখন রাজ্যগুলির প্রাথমিক দায়িত্ব। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।