সাশ্রয়ী জ্বালানি এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের বৃহত্তম টু-হুইলার প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘হিরো মটোকর্প’। ভারতের প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল মোটরসাইকেল হিসেবে সংস্থাটি তাদের দুই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিক্রিত মডেল—’স্প্লেন্ডার+’ (Splendor+) এবং ‘এইচএফ ডিলাক্স’ (HF Deluxe)-কে ফ্লেক্স ফুয়েল ভার্সনে বাজারে আনার ঘোষণা করেছে। এই নতুন মডেলে ২০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে, যা সাধারণ পেট্রলের তুলনায় পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী।
মূল্য ও প্রাপ্যতা:
সংস্থার ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লেক্স ফুয়েল সম্পন্ন স্প্লেন্ডার+-এর এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৮২,৮১০ টাকা। অন্যদিকে, এইচএফ ডিলাক্সের এক্স-শোরুম দাম ধার্য করা হয়েছে ৭২,৭৯২ টাকা। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রে এই বাইকগুলির ডেলিভারি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এই বাইকগুলি বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও সুবিধা:
বাইক দুটির বাহ্যিক ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন না আনলেও, ইঞ্জিন ও অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিতে বড়সড় বদল এনেছে হিরো মটোকর্প। ফ্লেক্স ফুয়েল ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এতে নতুন ফুয়েল পাম্প, সেকেন্ডারি ফুয়েল ফিল্টার এবং উন্নত ইসিইউ (ECU) ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। মোট ৩৬টি যন্ত্রাংশে পরিবর্তন এনে বাইকগুলোকে ই২০ (E20) থেকে ই৮৫ (E85) পর্যন্ত যেকোনো জ্বালানির মিশ্রণে চলার উপযোগী করা হয়েছে।
হিরো মটোকর্পের চিফ বিজনেস অফিসার আশুতোষ ভার্মা জানিয়েছেন, প্রচলিত বিএস-৬ (BS-VI) মডেলের তুলনায় এই ফ্লেক্স ফুয়েল বাইকগুলি থেকে ৭৭ শতাংশ কম কার্বন মনোক্সাইড, ১৪ শতাংশ কম হাইড্রো কার্বন এবং ৪০ শতাংশ কম মিথেন হাইড্রো কার্বন নির্গত হবে। ইথানলের দাম পেট্রলের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ায়, এই বাইক ব্যবহার করলে গ্রাহকদের মাসিক জ্বালানি খরচে বড় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনে সংস্থার মোট উৎপাদনের ৩৩ শতাংশ বাইক ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তিতে তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে হিরো।
ফ্লেক্স ফুয়েল যান কী?
ফ্লেক্স ফুয়েল ভেহিকেল বা এফএফভি (FFV) হলো এমন এক প্রযুক্তি, যেখানে পেট্রল বা ইথানলের যেকোনো অনুপাতের মিশ্রণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ইথানল যেহেতু পেট্রলের তুলনায় অধিক দাহ্য, তাই ইঞ্জিনের ফুয়েল লাইন, ইনজেক্টর এবং সিল-এ বিশেষ কারিগরি পরিবর্তন আনা হয়। পেট্রল ও ইথানলের দ্বিমুখী সক্ষমতা থাকায় এই বাইকগুলি ভবিষ্যতে ভারতের জ্বালানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের সবুজ যাতায়াত ব্যবস্থার লক্ষ্যে এক বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে হিরোর এই উদ্যোগ পরিবেশপ্রেমী এবং সচেতন ক্রেতাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।





