‘পুলিশের সংবেদনশীলতা কি বিক্রি হয়ে গেছে?’ শিশু নির্যাতন কাণ্ডে গুরুগ্রাম পুলিশকে ধুয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট!

শিশু নিগ্রহের মতো সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের অসংবেদনশীলতা দেখে ধৈর্য হারাল দেশের শীর্ষ আদালত। গুরুগ্রামের একটি শিশু নিগ্রহের ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণ— “তদন্তের নামে যা হয়েছে, তা অসংবেদনশীলতার চরম নিদর্শন।” গুরুগ্রাম পুলিশের তদন্তকারী অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের পেশাদারিত্ব এবং মানবিকতা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট।

তদন্তে গাফিলতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন: মামলার শুনানির সময় উঠে আসে যে, পকসো (POCSO) আইনের অধীনে দায়ের হওয়া এই অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ ন্যুনতম নিয়মাবলী পালন করেনি। নির্যাতিতা শিশুর বয়ান রেকর্ড করার সময় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ যে ধরনের আচরণ করেছে, তাকে ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, “একটি শিশুর মানসিক অবস্থা না বুঝে কীভাবে পুলিশ এমন আচরণ করতে পারে? আইনের রক্ষক হয়ে আইনভঙ্গকারীদের মতো আচরণ কেন?”

কড়া বার্তার মুখে গুরুগ্রাম পুলিশ: শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, শিশুদের সুরক্ষার জন্য তৈরি বিশেষ আইনগুলিকে নিয়ে ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “পুলিশের এই ধরনের আচরণ অপরাধীদের মনোবল বাড়িয়ে দেয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।” গুরুগ্রাম পুলিশের কমিশনারকে এই ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে নজর দেওয়ার এবং অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।

সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ: আগামী দিনে এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে যাতে প্রতিটি পদক্ষেপে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা হয়, তার জন্য কড়া গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, একটি শিশুর মানসিক ট্রমা বা যন্ত্রণা বোঝার ক্ষমতা যদি পুলিশের না থাকে, তবে তারা এই ধরনের মামলার তদন্তের যোগ্য নয়। গুরুগ্রাম পুলিশের এই ব্যর্থতা গোটা দেশের পুলিশ প্রশাসনের কাছে এক বড় সতর্কবার্তা। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া ভর্ৎসনার পর হরিয়ানা সরকার বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy