পুরসভা কি এবার হাতছাড়া? বিধানসভায় বিপর্যয়ের পর কলকাতা নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় তৃণমূল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এখন সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। যে শহরকে একসময় ঘাসফুল শিবিরের ‘অভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই দুর্গ রক্ষা করাই এখন পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ ফিরহাদ হাকিমদের কাছে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রাজ্যে এখন ‘পদ্ম জমানা’। বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপির অভাবনীয় উত্থান এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দলীয় সূত্রের খবর, বিধানসভার ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বহু ওয়ার্ডেই তৃণমূলের লিড তলানিতে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভা কি সত্যিই মমতার দলের দখলে থাকবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ আশঙ্কা দলীয় একটি অংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকায় প্রশাসনিক সুবিধাও এখন আর তৃণমূলের হাতে নেই। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর উজ্জীবিত বিজেপি কর্মীরা এখন থেকেই কলকাতা পুরসভা দখলের লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নামছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ যদি বিধানসভার ট্রেন্ড ধরে রাখে, তবে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের সিংহভাগই হাতছাড়া হতে পারে।

ফিরহাদ হাকিম ও পুরবোর্ড বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের কেন্দ্রে জয় ধরে রাখলেও, শহরের সামগ্রিক চিত্রটা খুব একটা সুখকর নয়। বিরোধীদের দাবি, কলকাতার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নাগরিক পরিষেবার অভাব এবং একাধিক ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভ এবারের ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে। বিজেপি এখন কেন্দ্রীয় স্তরেও এই জয়ের আবহকে কাজে লাগিয়ে কলকাতা পুরসভাকে নিজেদের অধীনে আনতে মরিয়া।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা পুরসভা রক্ষা করা এখন তৃণমূলের কাছে অস্তিত্বের লড়াই। একদিকে বিজেপির আগ্রাসী প্রচার, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে ঘাসফুল শিবির। আসন্ন পুর নির্বাচনে কলকাতা কি তার পুরনো মেজাজ বজায় রাখবে, নাকি রাজ্যের মতো তিলোত্তমার পুরবোর্ডেও ফুটবে পদ্ম, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy