ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে এবার এন্ট্রি নিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। এতদিন মস্কো কেবল কূটনৈতিক স্তরে ইরানকে সমর্থন দিলেও, এবার সরাসরি সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বা ‘ইন্টেলিজেন্স’ শেয়ার করে তেহরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে রাশিয়া। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইজরায়েলি বায়ুসেনার গতিবিধি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানকে আগাম সতর্ক করছে রাশিয়ার অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ও নজরদারি ড্রোন। পুতিনের এই সক্রিয়তা যুদ্ধের গতিপথকে সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পুতিনের গোয়েন্দা চাল: রাশিয়া তার নিজস্ব ‘গ্লোনাস’ (GLONASS) স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে ইজরায়েলের রণকৌশল হাতেনাতে ধরে ফেলছে। ইজরায়েলি ফাইটার জেটগুলি কখন উড়ান দিচ্ছে এবং কোন রুট দিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারে, সেই সংকেত সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে তেহরানের কন্ট্রোল রুমে। এর ফলে ইজরায়েলের অত্যন্ত গোপন ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ বা আচমকা হামলাগুলি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়ার হাই-টেক রাডার সিস্টেম এখন ইরানের আকাশসীমাকে সুরক্ষা দিচ্ছে, যা মোসাদ ও আইডিএফ-এর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
কেন এই সাহায্য? ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান যেভাবে রাশিয়াকে ‘কামিকাজে’ ড্রোন সরবরাহ করে সাহায্য করেছে, পুতিন এখন তার ঋণ শোধ করছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়ার কাছে ইরান এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। যদি ইরান এই যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব পুরোপুরি মুছে যাবে। তাই নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেই পুতিন এখন ইরানের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করছেন।
ইজরায়েল ও আমেরিকার উদ্বেগ: পুতিনের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ইজরায়েল। এতদিন তারা আকাশপথে কার্যত অপরাজেয় ছিল, কিন্তু রাশিয়ার জ্যামিং প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের কারণে ইজরায়েলি ড্রোন ও মিসাইলগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছে। আমেরিকা এই ঘটনাকে ‘ভয়ংকর প্ররোচনা’ হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই আঁতাঁত কেবল গোয়েন্দা তথ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, শীঘ্রই রাশিয়া ইরানকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম দিয়ে দিতে পারে।