পাহাড়ের বুকে রেলের স্বপ্ন দেখার দিন প্রায় দোরগোড়ায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে বুধবার নবান্নে আয়োজিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা এলাকার ২০ একর সরকারি জমি এই মেগা প্রকল্পের জন্য হস্তান্তরের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। এর ফলে প্রকল্পের পথে দীর্ঘদিনের যে জমি-জট বা পরিকাঠামোগত বাধা ছিল, তা অনেকটাই দূর হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রথমে এই ২০ একর জমি সরাসরি রাজ্যের বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর বন দফতর তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই জমি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাকাপাকিভাবে হস্তান্তর করবে। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের পর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার চাইছে, জাতীয় স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি যাতে কোনোভাবেই জমির অভাবে থমকে না থাকে।
উল্লেখ্য, ভারতের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সেবক-রংপো রেলপথ প্রকল্পটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে সিকিম যাতায়াতের জন্য মূলত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীদের যাতায়াত যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্ষাকালে ধসের কারণে যে যান চলাচলের সমস্যা দেখা দেয়, তা থেকেও মুক্তি পাবেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকৌশলীদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রেলপথ নির্মাণের কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং। একাধিক টানেল এবং বিশালাকার সেতু তৈরির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিলিগুড়ি থেকে রংপো পর্যন্ত যাতায়াতের সময় অনেকটা কমিয়ে আনাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের এই জমি হস্তান্তরের প্রশাসনিক পদক্ষেপটি কেন্দ্র ও রাজ্যের পারস্পরিক সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে রেল কর্তৃপক্ষ এখন তাদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে সেবক থেকে রংপো স্টেশনের উদ্দেশে প্রথম ট্রেনটির হুইসেল শোনা যায়।





