লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জনপদ দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে তৎপরতা তুঙ্গে। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা আর রাজনৈতিক গুরুত্ব—উভয় দিক বিবেচনা করেই বিশেষ রণকৌশল সাজাচ্ছে জেলা প্রশাসন। সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাহাড়ের দুর্গম এলাকার সেই বুথগুলোকে, যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না।
শ্যাডো জোনে স্যাটেলাইট কানেকশন: প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড়ের গহীন কোণে এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলোকে ‘শ্যাডো জোন’ বলা হয়। এই এলাকায় নেটওয়ার্কের অভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকে। তাই এবারের ভোটে সেখানে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুহূর্তের খবর মুহূর্তে পৌঁছাতে এটিই হবে প্রশাসনের প্রধান হাতিয়ার।
ক্রিটিক্যাল বুথ ও বিশেষ নজরদারি: দার্জিলিং জেলায় এবার ১৯৩টি বুথকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বুথগুলোতে অশান্তি এড়াতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে। বিশেষ মাইক্রো-অবজারভাররা প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখবেন।
পাহাড়ে নারী শক্তির জয়জয়কার: প্রতিবারের মতো এবারও নারী ভোটারদের উৎসাহিত করতে থাকছে বিশেষ চমক। দার্জিলিং ও কালিম্পং—উভয় জেলাতেই তৈরি হচ্ছে ‘পিঙ্ক বুথ’। এই কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে মহিলা ভোটকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে। সাজসজ্জা থেকে নিরাপত্তা, সবক্ষেত্রেই থাকবে নারী শক্তির স্পর্শ।
প্রস্তুতি তুঙ্গে কালিম্পংয়েও: শুধু দার্জিলিং নয়, কালিম্পং জেলা প্রশাসনও কোমর বেঁধে নেমেছে। ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ইভিএম (EVM) পরীক্ষার কাজ প্রায় শেষের মুখে। দুর্গম বুথগুলোতে যাতে ভোটকর্মীরা নিরাপদে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে।