পালাতে পারেননি শওকত! বামুনিয়া বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র জালে প্রাক্তন বিধায়ক, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৃহস্পতিবার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান, এরপর বাংলাদেশ পালানোর জল্পনা, আর অবশেষে শনিবার কামালগাজি থেকে এনআইএ-র হাতে গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ঘিরে গত কয়েক দিনে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে উত্তেজনা। শনিবার আদালত চত্বরে নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই শওকতের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। এলাকাবাসীদের ক্ষোভ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নথিপত্র, সবক্ষেত্রেই কোণঠাসা এই নেতা।

বামুনিয়া বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতারের পর রবিবার থেকেই শওকতকে লাগাতার জেরা শুরু করেছে এনআইএ। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য—বিস্ফোরণের দিন এবং তার আগের পরিকল্পনা। সূত্রের খবর, এই মামলায় এর আগে যাঁদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তাঁদের দেওয়া বয়ানের সঙ্গে শওকতের বক্তব্যের গরমিল খোঁজার চেষ্টা চলছে। এনআইএ-র দাবি, এই পুরো ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল অভিযুক্ত শওকতই। বিস্ফোরণের জন্য বোমা মজুদ করা থেকে শুরু করে ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট—প্রতিটি ধাপেই শওকতের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে রবিবার শওকত মোল্লা সহ এই মামলায় ধৃত বাকি চারজনের মোবাইল ফোন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এনআইএ আধিকারিকদের বিশ্বাস, শওকতের ফোনের কল ডিটেইলস, চ্যাট হিস্ট্রি এবং মেসেজেই লুকিয়ে রয়েছে ঘটনার আসল সত্য। বিস্ফোরণের আগে এবং পরের দিনগুলোতে কার কার সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠক বা ফোনে কথোপকথন হয়েছিল, সেই রহস্যভেদ করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, শওকতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর নজরে ছিলেন। রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি বা এসএসসি কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে নিজের ১৭ জনেরও বেশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং পরিজনদের এসএসসি-র গ্রুপ সি ও ডি পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে সেই চাকরিগুলো ব্ল্যাক লিস্টেড হয়। শুধু তাই নয়, সিবিআই এবং ইডি-র আগের তল্লাশিতে শওকতের দুই মেয়ের চাকরির বিষয়টিও সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে। জীবনতলা রোকেয়া মহাবিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক চাকরিরত অবস্থায় তাঁদের নিয়োগ নিয়েও এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে, এনআইএ-র জালে আটকে গিয়ে এখন আইনি গেরোয় পড়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy