পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ। বহু কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে আম আদমি পার্টির (AAP) প্রাক্তন বিধায়ক অমরজিৎ সিং সান্দোয়াকে সমন পাঠাল পাঞ্জাব ভিজিল্যান্স ব্যুরো। রূপনগর জেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে। আগামী ৮ মে, ২০২৬ তারিখে তাঁকে রূপনগরের মিনি সচিবালয়ে ভিজিল্যান্সের দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের একটি চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির মামলা থেকে। রূপনগরের নুরপুরবেড়ি থানায় বনভূমি সংক্রান্ত একটি জালিয়াতির ঘটনায় এফআইআর (নং ৬৯) দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা (৪২০), জালিয়াতি (৪৬৭/৪৬৮) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। তৎকালীন সময়ে তদন্ত কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও, এখন নতুন করে কোমর বেঁধে নেমেছে ভিজিল্যান্স বিভাগ।
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা গেছে, বন কর্পোরেশন নুরপুরবেড়ি এলাকায় ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য টেন্ডার ডেকেছিল। সরকারি নথিতে যে জমির প্রতি একরের দাম ছিল মাত্র ৯০,০০০ টাকা, সেই জমি কর্পোরেশনের কাছে একর প্রতি ৯.৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়! অর্থাৎ সরকারি দরের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে জমি বিক্রি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আরও মারাত্মক বিষয় হলো, সংরক্ষিত বনভূমি হওয়া সত্ত্বেও রাজস্ব নথিতে কারচুপি করে সেটিকে ‘অ-বনভূমি’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই চক্রান্তের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে তৎকালীন এসজিপিসি সদস্য দলজিৎ সিং ভিন্দার এবং তাঁর ভাই অমরিন্দর সিং ভিন্দারের নাম।
কিন্তু প্রাক্তন বিধায়ক সান্দোয়া কীভাবে এই জালে জড়ালেন? তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই কেলেঙ্কারির টাকায় একটি দামি ‘ইনোভা’ গাড়ি কেনা হয়েছিল সান্দোয়ার শ্বশুর মোহন সিংয়ের নামে। কিন্তু গাড়িটি নিয়মিত ব্যবহার করতেন স্বয়ং প্রাক্তন বিধায়ক অমরজিৎ সিং সান্দোয়া। এই যোগসূত্রই ভিজিল্যান্সের সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে। ২০২৬ সালের ৮ মে সকাল ১০টায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এখন দেখার, এই জেরায় দুর্নীতির আর কোন কোন রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসে।





