মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের কম্পন ধরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা কার্যত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই রয়েছে। একটি জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা এক চরম অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আপনারা নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, কোনো উন্মাদ বা পাগলের হাতে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তুলে দিতে পারি না।” ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) সূত্রে খবর, পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় তেহরান আমেরিকার কাছে আলোচনার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান এমন কিছু ছাড় চাইছে যা আমেরিকার পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। ট্রাম্পের কথায়, “ওরা চুক্তি করতে চাইছে ঠিকই, কিন্তু আমি তাতে সায় দিচ্ছি না। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত দিশেহারা ও বিচ্ছিন্ন।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, একদিকে ট্রাম্প যুদ্ধের আবহের কথা বলছেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস থেকে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে যে ইরানের সাথে শত্রুতা বা সক্রিয় যুদ্ধাবস্থা সমাপ্ত হয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত এলাকাগুলোতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী এখনও পূর্ণ শক্তিতে মোতায়েন রয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠেছে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ নিয়ে। ১ মে-র নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কংগ্রেসের থেকে সামরিক অভিযানের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প এই আইনটিকে সরাসরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধ থামানোর ষষ্ঠ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আইনপ্রণেতারা ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন। ফলে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।





