এক বছর আগে আজকের দিনেই কেঁপে উঠেছিল সীমান্তের ওপার। পহেলগাম হামলার ক্ষত বুকে নিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছিল, শান্তিকে দুর্বলতা ভাবলে তার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জয়পুরে আয়োজিত এক মেগা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসে ভারতীয় তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানালেন, “পরের বার ভারত শুধু প্রতিক্রিয়া জানাবে না, পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।”
সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই স্পষ্ট জানান, অপারেশন সিঁদুর বিশ্বজুড়ে এখন যুদ্ধের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, বরং ভারতের আত্মনির্ভরশীলতা এবং নিখুঁত সমন্বয়ের এক মহাকাব্য। ৯টি সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শত্রুর দম্ভ। যার মধ্যে সেনাবাহিনী চালিয়েছে ৭টি এবং বিমান বাহিনী ২টি নিখুঁত স্ট্রাইক।
জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ও ড্রাগন-পাক আঁতাত
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই জানান, নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে এখনও অসংখ্য জঙ্গি আস্তানা ও প্রশিক্ষণ শিবির সক্রিয় রয়েছে। নজরদারি এড়াতে পাকিস্তান এগুলোকে বারবার স্থানান্তর করছে। তবে ভারতের কড়া নজর থেকে বাঁচার কোনো পথ নেই। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আঁতাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের হাতে থাকা অধিকাংশ চীনা অস্ত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে, তবে ভারতও তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে এবং দ্রুত নতুন ইউনিটের অন্তর্ভুক্তি ঘটাচ্ছে।
আকাশপথে ভারতের দাপট
এয়ার মার্শাল অবধেশ কুমার ভারতী গত বছরের ৭ই মে-র সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি পাকিস্তানের প্রোপাগান্ডাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “পাকিস্তান দাবি করেছিল ভারতের বড় ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু বাস্তব হলো আমরা তাদের ১৩টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছি এবং কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অপারেশন সফল করেছি।” ২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল পহেলগাম হামলার জবাব দিতে তিন বাহিনীকে দেওয়া হয়েছিল পূর্ণ স্বাধীনতা।
নৌবাহিনী ও দেশীয় অস্ত্রের জয়জয়কার
ভাইস অ্যাডমিরাল এ. এন. প্রমোদ জানান, পুলওয়ামা পরবর্তী পরিস্থিতির মতো এবারও নৌবাহিনী আরব সাগরে রণতরী ও সাবমেরিন মোতায়েন করে পাকিস্তানকে চাপে রেখেছিল। ভারতের ব্যবহৃত অস্ত্রের ৬৫ শতাংশই এখন দেশীয়, যার মধ্যে ব্রাহ্মোস ও আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জুবিন মিনওয়ালা জোর দেন সাইবার ও তথ্য যুদ্ধের ওপর। তিনি জানান, মহাকাশ ও এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত এখন বহুমাত্রিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। প্রতিরক্ষা কর্তাদের বার্তা পরিষ্কার—ভারত আর শুধু পাল্ট মারবে না, শত্রুতা সমূলে বিনাশ করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করবে নতুন ভারত।





