পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (KPK) প্রদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে রাজ্যপাল শাসন (Governor’s Rule) চালু করতে পারে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার। মন্ত্রিসভার এক সদস্য সোমবার এই সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয় যখন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী (Imran Khan-এর দল সমর্থিত) সোহেল আফ্রিদি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ করেন। ইমরান খানকে নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান সোহেল। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানে নড়েচড়ে বসে পাক প্রশাসন। সকালেই মন্ত্রী আকিল মালিক নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে ঐ প্রদেশে রাজ্যপাল শাসন জারি করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকিল মালিক বলেন:
“দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ করা হতে পারে। কারণ, সোহেল আফ্রিদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চাইছেন না, সমন্বয় সাধন করছেন না। তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারেন।”
রাজ্যপাল শাসন কেন প্রয়োজন?
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ইমরান খানের দল ক্ষমতায় রয়েছে এবং সেখানে তাঁর লাখ লাখ সমর্থকও রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই অঞ্চলটি নিয়ে পাকিস্তান সরকার চাপে রয়েছে। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এখানে আগেও প্রতিবাদ হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখানোয় পাকিস্তানের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছে শেহবাজ সরকার।
আইন কী বলছে?
আকিল মালিক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ এবং ২৩৪ ধারার অধীনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাজ্যপাল শাসন চালু করা যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি তখন সেই এলাকার নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন:
-
“রাষ্ট্রপতি নিজেও এই পদক্ষেপ নিতে পারেন, পরে সংসদের যৌথ অধিবেশন থেকে অনুমোদন নিয়ে।”
-
“এই শাসন প্রাথমিকভাবে দুই মাস স্থায়ী হতে পারে। প্রয়োজনে তা বাড়ানোও যেতে পারে।”