পাকিস্তানের লস্কর-হামাস ‘অশুভ আঁতাত’! পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য এনআইএ-র

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে নেমে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ভারতের কোনো প্রথম সারির সন্ত্রাসবিরোধী এজেন্সির চার্জশিটে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে গাজা-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ‘হামাস’-এর সম্ভাব্য যোগসূত্রের উল্লেখ এই প্রথম। বিষয়টি একদিকে যেমন নজিরবিহীন, তেমনই তা ভারত ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনআইএ-র পেশ করা চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পহেলগাঁও হামলার মূল অভিযুক্ত লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং তার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর সঙ্গে অন্যান্য বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন জইশ-ই-মহম্মদ, আল কায়েদা এবং বিশেষ করে হামাসের কোনো অপারেশনাল বা কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, পাকিস্তানের জঙ্গি শিবির এবং গাজার হামাসের মধ্যে যে নতুন অক্ষ গড়ে উঠছে, তা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় হুমকি।

তদন্তকারীদের নজরে থাকা মূল বিষয়গুলি হলো—জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে উসকানি দিতে বা অর্থ জোগাতে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় ছিল কি না। বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ ও গোপন বৈঠকের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হওয়া হামাসের কুখ্যাত হামলার সঙ্গে পহেলগাঁও হামলার রণকৌশলগত মিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে, পহেলগাঁও হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং আক্রমণের ধরনে হামাসের সেই হামলার কোনো ছায়া রয়েছে কি না। প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলার কৌশলে বেশ কিছু যান্ত্রিক ও অপারেশনাল সাদৃশ্য মিলেছে। এনআইএ বর্তমানে হামলার নেপথ্যে থাকা আর্থিক লেনদেনের উৎস (Financial Trails), ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক খুঁটিয়ে দেখছে। পাকিস্তান ও বৈশ্বিক জিহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে এই নতুন যোগসূত্রটি ছিন্ন করাই এখন ভারতের গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য। এই চার্জশিট নিঃসন্দেহে বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy