বঙ্গ রাজনীতিতে প্রলয়ঙ্করী মোড়। দীর্ঘ টালবাহানা আর রাজভবন-নবান্ন স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরিণতি দেখল রাজ্যবাসী। বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। আর এই নির্দেশের সাথেই কার্যত যবনিকা পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনকালের বর্তমান মেয়াদে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, স্বাধীনতার পর বাংলার ইতিহাসে এমন সাংবিধানিক সংকট আর দ্বিতীয়টি নেই।
কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যপাল?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সাধারণত পরাজয়ের পর নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন, কিন্তু এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং তিনি কোনোভাবেই পদত্যাগ করবেন না।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষা করতে রাজ্যপাল সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) ধারার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। রাজভবনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেহেতু বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই এবং মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে রাজি নন, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
মুহূর্তে বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজ্যপালের এই নির্দেশের সাথে সাথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনত আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকছেন না। ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁর মন্ত্রিসভাও। এর ফলে প্রশাসনিক স্তরে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপাল এখন কেন্দ্রীয় সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রিপোর্ট পাঠাবেন। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে নাকি দ্রুত নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিয়ে দিল্লি ও কলকাতার প্রশাসনিক মহলে এখন সাজ সাজ রব।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। তাঁদের দাবি, জনমতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজভবনকে ব্যবহার করছে গেরুয়া শিবির। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটবেন নাকি রাজপথে গণআন্দোলনে নামবেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “বাংলায় অরাজকতার অবসান হলো।” বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় এখন নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হলো বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির।
পশ্চিমবঙ্গের এই মহানাটকীয় পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট এবং পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে সমস্ত খবরের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।





