সম্পর্কের ‘ভুল’ সন্দেহ এবং সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার জেরে রক্তাক্ত এক যুবক। কর্নাটকের কোপ্পাল জেলায় প্রতিবেশী এক মুসলিম যুবতীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহে এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল একদল উন্মত্ত যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ওই যুবকের অপরাধ ছিল, বন্ধুর সংসার বাঁচাতে তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
পুলিশ সূত্রে খবর, কোপ্পালের বসপত্তনা গ্রামের বাসিন্দা আজমীর ও আফিয়া নামে এক দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি তুমুল ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে চলে যান আফিয়া। নিরুপায় স্বামী আজমীর তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী বন্ধু ভেঙ্কটেশকে অনুরোধ করেন যেন তিনি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে আফিয়াকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়াতে ভেঙ্কটেশ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে আফিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি।
অভিযোগ, এক হিন্দু যুবককে মুসলিম মহিলার সঙ্গে কথা বলতে দেখে একদল যুবক চরম ভুল বোঝে। তাঁদের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এই তথাকথিত ‘নীতি পুলিশি’র বশে কোনো কথা না শুনেই ভেঙ্কটেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। স্থানীয়রা চিৎকার করে ভেঙ্কটেশকে নির্দোষ এবং দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী বলে দাবি করলেও তাতে কান দেয়নি উন্মত্ত জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে ওই দুই পরিবার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে এমন ‘ভুল’ সন্দেহে হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।