পদ্ম শিবিরের শক্ত ঘাঁটি ভাঙার ব্লু-প্রিন্ট! ভবানীপুরের বিতর্কিত ওয়ার্ডগুলি নিয়ে কী ‘মন্ত্র’ দিলেন মমতা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের ঘুঁটি সাজাতে যখন ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সী ব্যস্ত, ঠিক তখনই বেজে উঠল ফোন। ওপার থেকে স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, ভবানীপুরের বিশেষ কয়েকটি ওয়ার্ডের ফলাফল নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড—যেখানে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে আসছে, সেখানে জয়ের ধারা ফেরাতে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাতলে দিয়েছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো করেই জানেন, ভবানীপুর তাঁর ‘নিজের ঘর’ হলেও এখানকার কয়েকটা পকেট তৃণমূলের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ২০১৪ সালে তো খোদ তথাগত রায় এই বিধানসভা এলাকায় সুব্রত বক্সীকেও লিড দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যান যাতে ২০২৬-এ ফিরে না আসে, তার জন্যই ফিরহাদ ও সুব্রতকে বিশেষ ‘মন্ত্র’ দিয়েছেন নেত্রী। সূত্রের দাবি, মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু ও বাঙালি ভোটব্যাঙ্ক সংহত রাখার পাশাপাশি অবাঙালি ভোটারদের আস্থা অর্জনে আরও বেশি করে ঝাঁপাতে হবে। কাউন্সিলরদের প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নিজেদের এলাকায় লিড না থাকলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই বৈঠকের সময়টি ছিল একেবারে ‘প্রাইম আওয়ার’, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল নেত্রী এবার কোনো ফাঁক রাখতে রাজি নন। ভবানীপুরের ওয়ার্ড ভিত্তিক সমস্যা সমাধান এবং ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমনে ফিরহাদ হাকিমকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মমতার এই ফোনের পর তৃণমূল শিবিরে তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এখন দেখার, ‘ঘরের মাঠে’ এই কড়া নজরদারি বিজেপি-র ক্রমবর্ধমান গ্রাফকে কতটা রুখতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy