পদ্মাপাড়ে গণতন্ত্রের নবোদয়! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর বাংলাদেশে ফের প্রতিষ্ঠিত হলো নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করার পর, গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের শপথ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ নেওয়ার পর বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। বিগত এক বছরের ডামাডোল এবং সংঘাতের আবহে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে ভরসা জাগিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—পাহাড় কিংবা সমতল, যেখানেই আমরা বাস করি না কেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকার কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভেদ সহ্য করবে না এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁর প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

তারেক রহমানের এই ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভারতের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতার অলিন্দে ফিরে আসা বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি ঘটানো। তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy