পড়াশোনায় অনীহা নাকি গরমের দাপট? টানা ছুটির পর স্কুল খুলতেই উধাও ছাত্রছাত্রীরা; কী ঘটছে দক্ষিণ দিনাজপুরে?

ভোট মিটেছে, উৎসবের আমেজও প্রায় শেষ। কিন্তু ১৫ দিন পর স্কুলের তালা খুললেও দেখা নেই পড়ুয়াদের। সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ ও গৌড়বঙ্গের স্কুলগুলির দরজা খুললেও ক্লাসরুমে যেন শ্মশানের স্তব্ধতা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

খাঁ খাঁ করছে ক্লাসরুম, নেই চেনা কোলাহল

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার জন্য গত ১২ এপ্রিল থেকে বন্ধ ছিল স্কুল। টানা ১৫ দিন ছুটির পর ২৭ এপ্রিল (সোমবার) স্কুল খুললেও পঠনপাঠনে সেই চেনা ভিড় ফেরেনি। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন গার্লস হাইস্কুলে গিয়ে দেখা গেল এক হতাশাজনক দৃশ্য। বড় বড় ক্লাসরুমে হাতে গোনা মাত্র ২-৩ জন ছাত্রী বসে আছে। বেঞ্চের পর বেঞ্চ খালি পড়ে।

একই অবস্থা বালাপুর হাইস্কুলেও। যেখানে কয়েকশো ছাত্রছাত্রী থাকার কথা, সেখানে উপস্থিতির সংখ্যা ১০০-র গণ্ডিও পেরোয়নি। জেলা জুড়ে প্রায় প্রতিটি স্কুলেই একই রকম ছবি ধরা পড়েছে।

কেন এই স্কুল-বিমুখতা?

টানা ছুটির পর কেন ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ফিরছে না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকটি কারণ অনুমান করছেন:

  • ছুটির মেজাজ: দীর্ঘ ১৫ দিন পড়ার টেবিল থেকে দূরে থাকায় একটা বড় অংশের পড়ুয়া এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।

  • তীব্র দহন: উত্তরবঙ্গ জুড়ে চলা প্রচণ্ড দাবদাহ পড়ুয়াদের স্কুল বিমুখ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • অভিভাবকদের ধারণা: অনেক অভিভাবকই মনে করেছিলেন প্রথম দিন সম্ভবত ক্লাস হবে না, সেই ভেবেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি।

উদ্বেগে শিক্ষক সমাজ

পড়ুয়াদের এমন আচরণে স্বাভাবিকভাবেই কপালে ভাঁজ পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে যদি উপস্থিতির হার তলানিতে থাকে, তবে সিলেবাস শেষ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করতে এখন অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ডাক দিচ্ছে শিক্ষা মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy