পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির জাল ছিন্ন করতে রাজ্য জুড়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশকে এবার বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মতে, দীর্ঘদিন এক জায়গায় কর্মরত থাকলে আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে এমন এক চক্র তৈরি হয়, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে ব্যাহত করে। তাই এই ‘রুটিন বদলি’ ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব পঞ্চায়েত কর্মী টানা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই পঞ্চায়েত এলাকায় কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সরকার এই কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালনের ফলে যে সমস্ত অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল, তা রোধ করতেই এই ‘রোটেশন পলিসি’ কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১১০০ জন কর্মী রয়েছেন যাঁরা তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই স্থানে রয়েছেন। চলতি জুন মাসের মধ্যেই এই গণ-বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজ নিজ জেলায় তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত এই বদলির কাজ শেষ করতে।
শুধু বদলি নয়, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট বা নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণাও দিয়েছেন মন্ত্রী। এতদিন ধরে অডিট প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম ও অনিয়মিত ভাব ছিল, তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বাধ্যতামূলক অডিট করা হবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক অনিয়ম রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নিয়োগ নিয়ে এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। বর্তমানে রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মোট ১১,১৫৪টি শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা বা মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ ফাঁকা। মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬,৫৩৬টি শূন্য পদে নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই প্রক্রিয়া এখনও থমকে আছে। তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগ হবে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে। কোনো ধরনের অস্বচ্ছ বা অস্থায়ী পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হবে না, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।





