আর্থিক স্বচ্ছলতা বা ধনী হওয়া কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল অভ্যাসের ফল। বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে কেবল কঠোর পরিশ্রম করলেই ধনী হওয়া সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। অধিকাংশ মানুষই টাকা রোজগার করেন ঠিকই, কিন্তু মাসের শেষে তাঁদের হাতে জমানো পুঁজি প্রায় শূন্য থাকে। আপনিও যদি এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে আপনার জন্য রইল টাকা রোজগারের এবং তা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার পাঁচটি অতি গোপন এবং কার্যকর রহস্য। এই নিয়মগুলি মেনে চললে আপনিও দ্রুত পৌঁছে যেতে পারেন আর্থিক স্বাধীনতার শিখরে।
১. সঞ্চয় নয়, বিনিয়োগে মন দিন: অধিকাংশ মানুষ টাকা বাঁচিয়ে ব্যাঙ্কে জমিয়ে রাখেন। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির বাজারে অলস টাকা তার মূল্য হারায়। তাই জমানো টাকা সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করুন। শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা গোল্ড বন্ড হতে পারে আপনার সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার। মনে রাখবেন, টাকাই টাকা টানে।
২. অপ্রয়োজনীয় খরচে লাগাম: শখ পূরণ করা ভালো, কিন্তু বিলাসিতার চক্করে পড়ে ফালতু খরচ কমান। বড় কিছু কেনার আগে ভাবুন সেটি আপনার প্রয়োজনের না কি স্রেফ দেখানোর। ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে আপনি বড় অংকের মালিক হতে পারেন।
৩. এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি: বিপদে পড়লে যাতে আপনার জমানো বিনিয়োগে হাত দিতে না হয়, তার জন্য একটি জরুরি তহবিল বা এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন। আপনার মাসিক খরচের অন্তত ৬ গুণ টাকা এই তহবিলে রাখুন। এটি আপনাকে মানসিক শান্তি ও আর্থিক সুরক্ষা দেবে।
৪. বিনিয়োগকে ‘অটোমেটিক’ করুন: প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর খরচ করার আগেই বিনিয়োগের টাকা সরিয়ে ফেলুন। এসআইপি (SIP) বা অটো-ডেবিট সিস্টেম চালু করুন। এতে নিজের অজান্তেই আপনার সম্পদ বাড়তে থাকবে এবং আপনি নিয়মিত বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন।
৫. আয়ের একাধিক উৎস তৈরি করুন: শুধুমাত্র একটি চাকুরির ওপর ভরসা করে থাকা বর্তমান সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপশি ছোট কোনো ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং বা প্যাসিভ ইনকামের রাস্তা খুঁজুন। একাধিক উৎস থেকে টাকা এলে আপনার ধনী হওয়ার পথ অনেক বেশি মসৃণ হবে। মনে রাখবেন, আর্থিক স্বাধীনতা আপনার অধিকার, আর তা অর্জনের জন্য আজই এই নিয়মগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করুন।