পকেটে টান! প্যারাসিটামল থেকে অ্যান্টিবায়োটিক— বাড়ছে ৩০০ ওষুধের দাম?

ওষুধের বাজারে বড়সড় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০০-র বেশি ওষুধের দাম এককালীন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ওষুধ তৈরির খরচ লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই এমন পথে হাঁটতে চলেছে নয়া দিল্লি। বর্তমানে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA), ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছেন।

কোন কোন ওষুধের দাম বাড়তে পারে?
এই তালিকায় এমন কিছু জীবনদায়ী এবং অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে, যা প্রতিটি ঘরে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ব্যথানাশক প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক অ্যামোক্সিসিলিন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যামলোডিপিন ও অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন, স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসোন এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য পরিচিত অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।

কেন এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি?
মূলত কাঁচামালের অগ্নিমূল্যই এই সংকটের প্রধান কারণ। ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) এবং পেট্রোকেমিক্যাল থেকে প্রাপ্ত সলভেন্টের জন্য ভারত অনেকাংশেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে প্রোপিলিন, অ্যামোনিয়া এবং মিথানলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের দাম ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি খরচের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই ওষুধের বর্তমান বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা তাদের ব্যবসাকে অলাভজনক করে তুলেছে।

দাম কতটা বাড়তে পারে?
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন শিল্প সংগঠন সরকারের কাছে ওষুধের বর্তমান মূল্যের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ বা সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই বাড়তি চাপ না সইলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বাজারে তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। সরকার চাইছে, বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কাঁচামালের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে যেন ওষুধ কোম্পানিগুলো আবার দাম কমিয়ে আনে। অর্থাৎ, এটি একটি আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের চিকিৎসা খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy