নেতৃত্বহীন ধর্না? ক্ষমতা হারানোর মাস পেরোতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নেই হেভিওয়েটরা!

ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাস—এই অল্প সময়ের মধ্যেই ফের রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের পরিবর্তে শেষমেশ পুলিশের কড়াকড়িতে ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এই ধর্না কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। সমালোচকদের প্রশ্ন, দলের এই কঠিন সময়ে মঞ্চে ‘গুটিকয়েক নেতা’ কেন? প্রথম সারির হেভিওয়েটদের অনুপস্থিতি কি তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন?

মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চের ছবি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই অবাক। মমতার প্রতিটি প্রতিবাদী কর্মসূচিতে যে বিপুল জনসমর্থন ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভিড় দেখা যেত, এদিন যেন তার উল্টো চিত্র। মঞ্চে ফাঁকা চেয়ার এবং প্রথম সারির নেতাদের অনুপস্থিতি সরাসরি ইঙ্গিত দিচ্ছে দলের অন্দরে সৃষ্ট এক বিশাল শূন্যতার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দলের এই ‘নেতৃত্বহীন’ দশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে ‘অস্থিরতা’ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। বড় নেতাদের এই দূরত্ব তৈরি হওয়া কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপিকে হটানোর ডাক দিয়ে পুনরায় আন্দোলনের ময়দানে নামছেন, তখন দলের অন্দরে এই ‘বিচ্ছিন্নতা’ তৃণমূলের জন্য কতটা বিপদের সংকেত হতে পারে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

নেত্রী যখন একাই গর্জে উঠছেন, তখন তাঁর অনুগামী বা সতীর্থদের এই নীরবতা কি শুধুই কি কৌশলগত, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় অভিমান? উত্তর খুঁজছে বঙ্গ রাজনীতি। তবে এই ঘটনা যে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতের ওপর এক গভীর সংকটের ছাপ ফেলে গেল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy