২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রচারে নিত্যনতুন কৌশলে নজর কাড়ছেন প্রার্থীরা। তবে জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম যা করলেন, তা রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির ময়দান ছেড়ে সরাসরি নাটকের মঞ্চে অবতীর্ণ হলেন তিনি। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
মঞ্চে সোমনাথ শ্যাম: সম্প্রতি জগদ্দল এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে পেশাদার অভিনেতাদের সঙ্গে নাটকে অভিনয় করতে দেখা যায় বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকে। পরনে বিশেষ পোশাক আর সংলাপের ধরনে তিনি দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন। তৃণমূল শিবিরের দাবি, সোমনাথ বাবু বরাবরই সংস্কৃতিমনা মানুষ, তাই জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে তিনি সংস্কৃতিকেই বেছে নিয়েছেন।
বিজেপির কটাক্ষ: তৃণমূল প্রার্থীর এই ‘মঞ্চাভিনয়’ নিয়ে বিদ্রুপ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে অর্জুন সিং এবং স্থানীয় নেতৃত্ব সোমনাথ শ্যামকে লক্ষ্য করে তোপ দেগেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “বিধায়ক হিসেবে গত পাঁচ বছর উনি জগদ্দলের মানুষের সঙ্গে কেবল অভিনয়ই করে গিয়েছেন। এখন ভোটের মুখে সেই অভিনয়ের প্রচার মঞ্চেও নিয়ে এসেছেন। আমাদের অনুরোধ, নিছক বিনোদন ঠিক আছে, কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে যেন উনি অভিনয় না করেন।”
পাল্টা জবাব তৃণমূলের: বিজেপির এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তাঁদের মতে, বিজেপির সংস্কৃতি বা শিল্পবোধ নেই বলেই তারা সৃজনশীল কাজকে ভয় পায়। জগদ্দলের মানুষ সোমনাথ শ্যামকে চেনেন এবং তাঁর কাজের নিরিখেই তাঁকে ভোট দেবেন।
ভোটের লড়াইয়ে জগদ্দলে উন্নয়ন বনাম অভিনয়ের এই লড়াই এখন সরগরম করে তুলেছে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিকে। শেষ পর্যন্ত এই ‘নাটক’ ভোটারদের মনে কতটা দাগ কাটে, সেটাই এখন দেখার।





