রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ এবং তার পরবর্তী আইনি জট নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary List) নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, যারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য ছিল এবং যাদের নাম তালিকার অগ্রভাগে থাকার কথা ছিল, সেই বিবেচনাধীন তালিকার প্রায় ৫০ শতাংশ নামই রহস্যজনকভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এদিন একটি প্রকাশ্য জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাংশের সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান, রাজ্য সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করতে চাইলেও কিছু আইনি জটিলতা এবং ‘অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপে যোগ্য প্রার্থীদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আমরা যখন তালিকা খতিয়ে দেখলাম, দেখা গেল ৫০ শতাংশ নামই গায়েব! কেন এই বঞ্চনা? যারা দিনের পর দিন রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন, তাদের অনেকের নামই তালিকায় ছিল।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ সরাসরি স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার দিকে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্য প্রশাসন নিয়োগ দিতে চাইলেও কিছু যান্ত্রিক এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে যে প্রার্থীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তাদের মনে এই মন্তব্য নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী পক্ষ অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে ‘দায় ঝেড়ে ফেলার কৌশল’ হিসেবে দেখছে। তবে খোদ প্রশাসনিক প্রধানের মুখে ৫০ শতাংশ নাম বাদ দেওয়ার তত্ত্ব নিয়োগ বিতর্কে যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।