উচ্চপ্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন জট কাটতেই চাইছে না। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও ‘ম্যাচিং ভ্যাকেনসি’ বা সমগোত্রীয় শূন্যপদ না মেলায় থমকে গিয়েছে ১,২৪১ জন চাকরিপ্রার্থীর কাউন্সেলিং। গত ৩০ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট অ্যাডভোকেট জেনারেলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই জট কাটানোর নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। শিক্ষা দফতর এখনও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) শূন্যপদের তালিকা না পাঠানোয় হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে কমিশন। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগের একেবারে শেষ ধাপে পৌঁছেও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে চাকরিপ্রার্থীরা।
আদালতের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২৪ সালের ২৮ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মেধাতালিকায় থাকা ১৪ হাজার ৫২ জন প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মোতাবেক এসএসসি আট দফায় ১২ হাজার ৭২৩ জনের কাউন্সেলিং সম্পন্ন করে। কিন্তু গোল বাঁধে বাকি থাকা ১,২৪১ জনকে নিয়ে। গত বছর ২০ নভেম্বরের মধ্যে এই কাউন্সেলিং শেষ করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, শিক্ষা দফতর এবং কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই আটকে রয়েছে এই প্রক্রিয়া।
ক্ষোভে ফুঁসছেন চাকরিপ্রার্থীরা: পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালত অবমাননার নির্দেশের পরেও বারবার সময়সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। ৩০ জানুয়ারি আদালত এজি-কে সমস্যা মেটাতে বলেছিলেন। কিন্তু শিক্ষা দফতর এখনও ম্যাচিং ভ্যাকেনসি পাঠায়নি। সামনেই ভোট, আমরা আর কতদিন অপেক্ষা করব?” তাদের দাবি, অবিলম্বে কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কাউন্সেলিং শুরু করতে হবে।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে। তাঁদের দাবি, আদালত ও প্রশাসনের টালবাহানায় তাঁদের জীবন থেকে অমূল্য সময় নষ্ট হচ্ছে। শুনানির দিনে যদি সদর্থক কোনো সমাধান না মেলে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বঞ্চিত ১,২৪১ জন প্রার্থী।