নিখোঁজ ছিলেন ১০ মে! ভুল শনাক্তকরণে দাহ করা হলো অন্য দেহ, তারপর যা ঘটল…?

ঝাড়খণ্ডের খুন্তি জেলায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে, যা কোনো সিনেমাকেও হার মানায়। মৃতদেহ শনাক্তকরণ থেকে শেষকৃত্য—সবই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, কয়েক দিন পরই স্বয়ং ‘মৃত’ ব্যক্তি বাড়িতে ফিরে এসে সকলকে অবাক করে দিলেন। এই ঘটনায় এখন পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৪৫ বছর বয়সি বিশ্রাম মুণ্ডা গত ১০ মে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিশ পায়নি। এর ঠিক একদিন পরেই স্থানীয় পুলিশ একটি নর্দমা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে। খুন্তি সদর হাসপাতালে দেহটি দেখার পর বিশ্রাম মুণ্ডার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এটি বিশ্রাম মুণ্ডারই দেহ। দেহটির উচ্চতা, শারীরিক গঠন এবং মুখমণ্ডলের সাথে মুণ্ডার অদ্ভুত মিল থাকায় গ্রামের লোকজনও নিশ্চিত ছিলেন যে এটি বিশ্রাম মুণ্ডারই দেহ। সব আইনি প্রক্রিয়া মিটিয়ে পুলিশ দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং আদিবাসী রীতি মেনে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়।

কিন্তু গল্পের মোড় ঘোরে কয়েক দিন বাদে। সকলকে চমকে দিয়ে বিশ্রাম মুণ্ডা আচমকাই খুন্তিতে তাঁর মেয়ের ভাড়া করা বাড়িতে ফিরে আসেন। জীবিত বিশ্রামকে দেখে আত্মীয়স্বজনরা রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি রামগড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই এতদিন ছিলেন। এই ঘটনার পর পুলিশ এখন বিপাকে পড়েছে। যে মৃতদেহটি দাহ করা হয়েছে, তা আসলে কার? এই রহস্যের জট খুলতে পুলিশ ওই সমাধি খুঁড়ে দেহাবশেষ বের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মৃতদেহটির ডিএনএ (DNA) টেস্টের মাধ্যমে আসল পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুন্তির এসডিপিও বরুণ রজক।

ইতিমধ্যে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতেও এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। পাঞ্জাবি গায়িকা ইন্দর কৌর, যিনি যশিন্দর কৌর নামে পরিচিত, বেশ কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর লুধিয়ানার নীলো খাল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ঠিক কারা দায়ী বা কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও রহস্য রয়ে গিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

একদিকে জীবিত ফিরে আসা বিশ্রাম মুণ্ডার গল্প, অন্যদিকে ইন্দর কৌরের রহস্যমৃত্যু—এই দুটি ঘটনা জনমানসে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনই দেহ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে পুলিশের পদ্ধতি ও পরিবারের অসাবধানতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে নর্দমা থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিটি আসলে কে ছিলেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy