বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নিউ ইয়র্ক সিটি দেখল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাত পেরিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০২৬ সাল পড়তেই সিটি হলের নীচে এক পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে কোরানে হাত রেখে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। আমেরিকার বৃহত্তম শহরের ১১১তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এই ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি কেবল নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির পুত্র জোহরান উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। ৭ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কে আসা মামদানি ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। ৯/১১ পরবর্তী উত্তাল সময়ে এক মুসলিম যুবক হিসেবে তাঁর বেড়ে ওঠার লড়াই আজ তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
তবে মামদানির এই জয় হোয়াইট হাউসের জন্য স্বস্তির নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি। ট্রাম্পও তাঁকে খুব একটা পছন্দ করেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৪ বছর নিউ ইয়র্ক সিটি বনাম ট্রাম্প প্রশাসনের এক তুমুল রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকবে বিশ্ব। শপথ নেওয়ার পরেই মামদানি তাঁর ‘সাশ্রয়ী নিউ ইয়র্ক’ গড়ার লড়াই শুরু করেছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, সরকারি মুদির দোকান এবং বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ারের মতো বৈপ্লবিক সব পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার বার্নি স্যান্ডার্সের উপস্থিতিতে এক রাজকীয় জনসভায় ফের ভাষণ দেবেন এই কনিষ্ঠতম মেয়র।