নাসিকের আইটি কোম্পানিতে যৌনদাসী বানানোর ছক! টিসিএস-এর বিপিও ইউনিটে হাড়হিম করা কেলেঙ্কারি

মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক নামী আইটি কোম্পানির বিপিও (BPO) ইউনিটে দীর্ঘদিনের যৌন শোষণ এবং ভয়াবহ হয়রানির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক ভিত্তিক ইউনিটের দিকে। অন্তত আটজন নারী কর্মী দাবি করেছেন, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে কেবল যৌন নির্যাতনই নয়, বরং মানসিক অত্যাচার এবং তীব্র ধর্মীয় চাপের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় নাসিক পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।

নাসিক পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কার্নিক জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাতজন পুরুষ অভিযুক্ত একটি ‘গ্যাং’ হিসেবে কাজ করত এবং নারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাত। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই ‘টিম লিডার’-এর মতো প্রভাবশালী পদে আসীন ছিলেন এবং তাঁরা নিজেদের পদের অপব্যবহার করে এই নারকীয় লীলা চালাতেন। এমনকি কোম্পানির এইচআর (HR) প্রধান এক নারী অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দিতেন এবং অপরাধীদের আড়াল করতেন।

শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, অভিযোগে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক তথ্যও। ভুক্তভোগীদের নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেতে বাধ্য করা এবং বিশেষ ধর্মীয় কার্যকলাপে অংশ নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ মিলেছে। এমনকি এক পুরুষ কর্মী দাবি করেছেন, তাঁকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৮ই এপ্রিল কমিশনের একটি বিশেষ দল নাসিকের ওই অফিস পরিদর্শন করবে। তাঁরা ভুক্তভোগী নারী, পুলিশ এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলবেন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy