পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়ে রাজ্যজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতার এই ঘোষণা ঘিরে যেমন আশার আলো দেখছেন অনেকে, তেমনই উঠে আসছে একরাশ যন্ত্রণা আর অপ্রাপ্তির কথা। সোমবার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেল, উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন এই সামান্য ভাতার আশায়, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের মুখেই এক কথা— “ভাতা নয়, সম্মানজনক চাকরি চাই।”
মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রের একটি ক্যাম্পে ভিড়ের মধ্যে নজর কাড়লেন কেয়া জানা। ২০২১ সালে বিএসসি নার্সিং পাস করেছেন তিনি। সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন, কিন্তু শিকে ছিঁড়ছে না। বাধ্য হয়ে এখন হাতখরচ জোগাতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন দেড় হাজার টাকার জন্য। গলায় আক্ষেপের সুর নিয়ে তিনি বললেন, “নার্সিং পাস করে আজও বসে আছি। পরীক্ষা দিয়েই যাচ্ছি, কিন্তু নিয়োগ কই? মাসে দেড় হাজার টাকায় কী হবে? যদি সরকার আমাদের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করত, তবেই প্রকৃত উপকার হতো।” একই ছবি ধরা পড়েছে কাটোয়াতেও। সেখানে বিটেক পাস করা ছেলের বেকারত্বের জ্বালা সইতে না পেরে ভাতার ফর্ম তুলতে এসে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন এক মা। তাঁর হাহাকার, “ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ল, এখন ও ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়াবে?”
রাজ্য সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছে এবং এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫,০০০ কোটি টাকা। মূলত মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকারদের কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ ৫ বছর এই ভাতা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকে যাবে। তবে আবেদনকারীদের বড় অংশের দাবি, বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দিনে ৫০ টাকায় কিছুই হয় না। বেহালা পূর্বের এক আবেদনকারীর কথায়, “১৫০০ টাকার বদলে যদি ১৫ হাজার টাকার একটা কাজ পেতাম, তবে বাড়ি ফিরতে বেশি লজ্জা লাগত না।” ভাতার লাইন যেন এক লহমায় রাজ্যের শিক্ষিত বেকারত্বের করুণ কঙ্কালটাই সামনে এনে দিল।