লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হতে না পারার দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তারকেশ্বরের জনসভা এবং সোশ্যাল মিডিয়া মারফত তার পাল্টা কড়া জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়ন চায় না; বরং তারা ‘নারী শক্তি’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) নামক এক রাজনৈতিক চক্রান্ত সফল করতে চাইছে।
মমতার আক্রমণের মূল তির: এদিন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘মিথ্যাচারী’ এবং ‘দ্বিমুখী’ বলে আক্রমণ করে মমতা বলেন:
ডিলিমিটেশন চক্রান্ত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি সরকার লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চাইছে। এর আড়ালে উত্তর ভারতের প্রভাব বাড়ানো এবং বাংলা তথা দক্ষিণ ভারতের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
নারীদের অপমান: প্রধানমন্ত্রীর ‘পাপ’ মন্তব্যের জবাবে মমতা বলেন, “তৃণমূলই একমাত্র দল যেখানে ৩৭ শতাংশের বেশি মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন। বিজেপি আমাদের নারী উন্নয়ন শেখাতে আসবে না।”
ভোটের গিমিক: মমতা প্রশ্ন তোলেন, যদি সদিচ্ছাই থাকে, তবে ২০২৩ সালে পাস হওয়া বিল কার্যকর করতে কেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে? কেন একে ডিলিমিটেশনের সাথে জুড়ে দেওয়া হলো?
কেন উত্তাল রাজনীতি? উল্লেখ্য, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন যে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মতো দলগুলি নিজেদের স্বার্থে মহিলা সংরক্ষণ বিল আটকে দিয়েছে। পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল সংরক্ষণের পক্ষে, কিন্তু সেই আইনের আড়ালে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে রাজ্যগুলোর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে।
২০২৬-এর লড়াইতে প্রভাব: রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে দু-পক্ষই এখন মরিয়া। মমতার এই ‘ডিলিমিটেশন’ তত্ত্ব বাংলার মানুষের মনে আঞ্চলিক আবেগকে উসকে দিতে পারে, যা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উপসংহার: “আপনারা ভয় পেয়েছেন বলেই মিথ্যা বলছেন”— প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মমতার এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল। একদিকে মোদীর ‘গ্যারান্টি’, অন্যদিকে মমতার ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব— এই দ্বৈরথে শেষ হাসি কে হাসবে, তা বলবে আগামী ২০২৬-এর ব্যালট।





