প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের আত্মজীবনীকে কেন্দ্র করে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লোকসভা। সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর দাবি, দেশের সীমান্ত রক্ষা ও চিনা অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নিজের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তুমুল হট্টগোলের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয় নিম্নকক্ষের অধিবেশন।
সকালে সংসদ ভবনে নারাভানের বইটি হাতে নিয়ে রাহুল গান্ধি বলেন, “কৈলাস পর্বতের কাছে চিনা ট্যাঙ্ক যখন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছিল, তখন তৎকালীন সেনাপ্রধান নারাভানে বারবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশ পাননি। নারাভানেজি নিজেই লিখেছেন, সেই সময় তিনি নিজেকে বড্ড একা অনুভব করছিলেন। অথচ ‘টপ’ (শীর্ষ কর্তৃপক্ষ) থেকে নির্দেশ ছিল, অনুমতি ছাড়া গুলি না চালাতে।” রাহুলের তোপ, প্রধানমন্ত্রী সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন বলেই আজ সংসদে আসেননি।
বিকেলে সংসদ থেকে বেরোনোর সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধিও একই সুরে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এতটাই ভীত যে হাউজেই এলেন না। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তো বুলেট ট্রেনের গতিতে পালিয়ে গেলেন।” অন্যদিকে, রাহুলের এই আক্রমণের পালটা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বেশ কিছু বই দেখিয়ে দাবি করেন, গান্ধি পরিবারও একাধিকবার দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে। শাসক-বিরোধী এই তীব্র সংঘাতের জেরে বুধবারের মতো মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা।