নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় চমক! সীমান্ত সুরক্ষা থেকে আয়ুষ্মান ভারত— একগুচ্ছ মেগা ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। শপথ গ্রহণের পর এই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠককে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে সমস্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, তা রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, গৈরিক বাংলায় পরিবর্তনের অর্থ উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়। তিনি রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “পুরনো সরকারের কোনও জনকল্যাণমূলক বা সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে এই প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” শুভেন্দু জানান, মৃত ব্যক্তিরা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে সরকারি কোষাগারের অপচয় না করেন এবং কেবল প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই যাতে প্রকল্পের সুফল পান, তা কড়া হাতে নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্গদর্শনে এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার রাজ্যে সুশাসন ও সুরক্ষার নয়া জমানার সূচনা করবে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিনের ক্যাবিনেট বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল রাজ্যের নিরাপত্তা এবং শহিদ সম্মান। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে সরকার প্রতিষ্ঠায় আত্মবলিদান দেওয়া ৩২১ জন শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই পরিবারগুলো কেবল হত্যার ন্যায়বিচারই পাবে না, তাদের সমস্ত সামাজিক ও কল্যাণমূলক দায়-দায়িত্ব নতুন সরকার নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে। এছাড়া, রাজ্যে ৯৩ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানান।

রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা এবং ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন রুখতে প্রথম দিনেই একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্ত সুরক্ষিত করতে বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে মুখ্যসচিব এবং ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই এই কাজ শুরু হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে রাজ্যে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মেনে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে রাজ্যের অন্তর্ভুক্তিতে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পিএম কিষাণ, ফসল বিমা যোজনা, পিএম শ্রী এবং উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০-এর মতো প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বিশ্বকর্মা যোজনার আটকে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন দ্রুত কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান মেনে এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy