লোকসভা ভোটের আবহে এবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আর তার সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। যোগীর এই হুঙ্কারের পালটা দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা ফিরহাদ হাকিম সাফ জানিয়ে দিলেন, বাইরে থেকে ‘বুলডোজার বাবা’ নিয়ে এসে বাঙালিকে ভয় দেখানো যাবে না।
ঠিক কী ঘটেছিল? নন্দীগ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ বিজেপির চিরাচরিত ‘বুলডোজার মডেল’ এর কথা উল্লেখ করেন। সমাজবিরোধীদের শায়েস্তা করতে উত্তরপ্রদেশের ঢঙেই বাংলায় বুলডোজার চালানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয় এবং রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
ফিরহাদ হাকিমের পাল্টা আক্রমণ: যোগীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন:
“বিজেপি ওসব বাইরে থেকে বুলডোজার বাবা নিয়ে আসছে। কিন্তু ধমকে-চমকে বাঙালিকে আটকানো যাবে না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে, ভয়ের রাজনীতি এখানে চলবে না।”
তৃণমূলের অবস্থান: তৃণমূলের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে বুলডোজার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। ফিরহাদের কথায়, যোগী আদিত্যনাথ নিজের রাজ্যে কী করছেন সেটা তাঁর ব্যাপার, কিন্তু বাংলার মাটিতে এসে এই ধরণের তর্জন-গর্জন বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম: শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক নন্দীগ্রামে যোগীর এই উপস্থিতি এবং ফিরহাদের পালটা আক্রমণ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুর। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ ঘটাতেই বিজেপি এই রণকৌশল নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এখন দেখার, এই ‘বুলডোজার বনাম উন্নয়ন’ তর্কে শেষ হাসি কে হাসে।





