একুশের ভোটে নন্দীগ্রাম ছিল গোটা ভারতের নজরে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও সেই চেনা ছবি ফিরলেও এবার সমীকরণে বড় বদল। আলোচনার কেন্দ্রে এখন ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ বা ISF। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নন্দীগ্রামে কি এবার ‘কিং মেকার’ হতে চলেছে নওশাদ সিদ্দিকীর দল?
ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক দিক থেকে নন্দীগ্রাম দুটি ব্লকে বিভক্ত। নন্দীগ্রাম ১ ব্লক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা, যা চিরাচরিতভাবে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ২ ব্লক হিন্দু প্রভাবিত এলাকা, যেখানে বিজেপির দাপট লক্ষ্য করা যায়। গত নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৯৫৬ ভোটের। এবার সেই সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ যদি ISF-এর দিকে ঘোরে, তবে সরাসরি সংকটে পড়বে তৃণমূল। আবার ভোট কাটাকাটির জেরে যদি ত্রিমুখী লড়াই জমে ওঠে, তবে কার কপাল পুড়বে আর কার খুলবে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত, দুটি পঞ্চায়েত সমিতি ও পাঁচটি জেলা পরিষদ আসন নিয়ে গঠিত এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে এখন প্রতি পদে অঙ্ক কষছে সব পক্ষ। শাসক দলের ভয়, সংখ্যালঘু ভোট হাতছাড়া হওয়া মানেই বিজেপির সুবিধা। অন্যদিকে, বিরোধীরা মনে করছে মানুষের ক্ষোভ প্রতিফলিত হলে ISF হবে বড় ফ্যাক্টর। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নির্ভর করছে এই ‘তৃতীয় শক্তি’র উত্থানের ওপর।