বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় মোড়! দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করল ইরান। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আবহেই তেহরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক স্বস্তি বয়ে এনেছে। আর এই ঘটনাকে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করে ময়দানে নেমে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের ঘোষণা ও ট্রাম্পের হুঙ্কার: ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চিত করেছেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই আসরে নামেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান ঘোষণা করেছে যে প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার জয়! আমার সাফল্য!” কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী? বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইরানের এই ‘ইউ-টার্ন’ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হোয়াইট হাউস মিশন: ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আপাতত ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত করতে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে সরাসরি হোয়াইট হাউসে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
চুক্তির শর্তাবলি:
আগামী ১০ দিন কোনও পক্ষই একে অপরকে আক্রমণ করবে না।
লেবানন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের মাটি ব্যবহার করে হিজবুল্লা কোনও হামলা না চালায়।
আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্সির শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরণের স্থিতাবস্থা তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজকে বিশ্ব দরবারে আরও শক্তিশালী করবে।





