দীর্ঘ ৪৯ দিনের টানটান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার অবসান। অবশেষে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা করল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই তেহরানের এই বড় পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে এল।
ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও ইরানের ইউ-টার্ন: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাতের জেরে এই প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় সক্রিয় হতেই বদলে গেল ছবিটা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘এক্স’ (X) হ্যান্ডেলে সাফ জানিয়েছেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা হল।” এই ঘোষণার পরেই ট্রাম্প তেহরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে একে নিজের জয় হিসেবে দাবি করেছেন।
যুদ্ধবিরতির ঐতিহাসিক ১০ দিন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।
মূল লক্ষ্য: এই ১০ দিনের বিরতি আসলে ইরানের সঙ্গে বড় যুদ্ধ বন্ধ করার একটি প্রাথমিক ধাপ।
হোয়াইট হাউস বৈঠক: আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই ইজরায়েল ও লেবাননের নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
কেন এই স্বস্তি গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক বিশাল অংশ এই সরু প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ৪৯ দিন ধরে এই পথ কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন লেগেছিল। এখন ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের নির্ধারিত রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় ভারতের মতো তেল আমদানিকারী দেশগুলোর জন্য বড় সুবিধা হবে।
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং লেবাননের যুদ্ধ থামিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করতে চাইছেন যে, আন্তর্জাতিক সংকটে তাঁর হস্তক্ষেপই চূড়ান্ত। আপাতত এই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়াকে ‘শান্তির পথে বড় ধাপ’ হিসেবেই দেখছে বিশ্ব।





