২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলাকে ‘রক্তপাতহীন’ ও হিংসামুক্ত করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত নির্বাচনের ফলপ্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু এবার দিল্লির মসনদ থেকে আসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার পরও পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনই ফিরছে না বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কমিশনের মেগা প্ল্যান: নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের ফল বেরোনোর পর রাজ্যে অশান্তি বা ‘পোস্ট পোল ভায়োলেন্স’ রুখতে অন্তত ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ৫০০ কোম্পানি) অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন থাকবে।
কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত?
ভোট পরবর্তী হিংসা রোধ: বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিজয় মিছিল বা হারের ক্ষোভ থেকে যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
ভোটারদের আত্মবিশ্বাস: সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা বোধ বজায় রাখতে এবং ঘরছাড়া কর্মীদের ঘরে ফেরাতে এই বাহিনীর উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করছে কমিশন।
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর: নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, প্রশাসনিক স্তরে শান্তি বজায় রাখতে এই বিশাল বাহিনী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
দিল্লির বিশেষ নজর: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভোট গ্রহণ নয়, গণনার পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ৫০ হাজার জওয়ানের ব্যারাক হবে পশ্চিমবঙ্গই। সাধারণত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই বাহিনীকে টহলদারির কাজে লাগানো হবে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, শাসক শিবিরের একাংশ একে রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে ভোটারদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এমন ‘দীর্ঘমেয়াদী’ সেনা মোতায়েন আগে কখনো দেখা যায়নি। ছাব্বিশের লড়াইয়ে ব্যালট বক্সের পাশাপাশি বুটের শব্দ যে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, তা এখন স্পষ্ট।





