পঁচিশ বছর আগে দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ তাঁরই বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট এক অন্ধকার অধ্যায়ে প্রবেশ করল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কার্যত একঘরে হওয়ার পথে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ‘জাতীয় মর্যাদা’র গোঁড়ামি এবং বিসিবি সভাপতি বুলবুলের নমনীয়তায় ধ্বংসের মুখে টাইগারদের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক ক্ষতির যে খতিয়ান সামনে আসছে তা শিউরে ওঠার মতো। আইসিসি-র বার্ষিক রেভিনিউ শেয়ার থেকে বাংলাদেশ হারাবে প্রায় ৩.৩৫ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা (প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এছাড়া স্পনসরশিপ ও ব্রডকাস্টিং রেভিনিউ থেকে আয় কমবে প্রায় ৬০ শতাংশ। ক্রিকেটের এই বিরাট ক্ষতির দায় কার, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
অভিযোগ উঠছে, এই বয়কট আসলে নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক গভীর রাজনৈতিক চাল। আসিফ নজরুলের অনড় অবস্থানের সামনে বিসিবি সভাপতি বুলবুল কার্যত নতিস্বীকার করেছেন। বিসিবি-র একটি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ড মিটিংয়ে খেলোয়াড়েরা কথা বলার সাহস পাননি। তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গেই যখন বিরূপ আচরণ হয়েছে, তখন বর্তমান তারকারা ক্যারিয়ার ধ্বংসের ভয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, অগাস্টে ভারতের পরিকল্পিত বাংলাদেশ সফরও এখন বিশ বাঁও জলে। যদি ভারত সফর বাতিল হয়, তবে টিভি স্বত্ব থেকেই কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে ঢাকাকে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এই চরম অবনতি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।